কারবারি…

গোধূলিতে দেখা হবে, যখন উড়বে নিশান।
কথা ছিল এমনই। সে কি আজ…?
বাঁধা ছিল শত শত, দুর্গম ভোলা পথ।
তবুও আমরা চলেছি, থেমে নেই তো কাজ।

যেখানে কোলাহল থমথমে, সবাই নির্বাক।
হাতের মুঠোয় সর্বমূল্য, ফসকে গেলে যাক।
সামনে সবই ধুলো ধুলো, আছে শুধুই বিশ্বাস,
অন্ধ পথেই হেটে চলে মৃত্যু সাগর পাড়।

পৌঁছে না আলো-হাওয়া, গভীর ঘোলা জলে,
জীব ও জড়ের তফাৎ কোথা? জ্ঞান আহারণে।
জ্ঞানই যদি পথ দেখাবে, হয় যদি সে কাণ্ডারি,
অজানাকে জানতে চাওয়া কেন হবে কারবারি।

দেখছে যারা, শুনছে কত, বলবেই বা কী?
আমরা মানুষ সাক্ষ্য দিলাম তাদেরই নামটির।
এখন তাদের কাদা মুখে সাদা সে এক হাসি,
সত্য-মিথ্যা সব গুলিয়ে শুনছি ক্ষীণ সুরের বাঁশি।।

Advertisements

সেকল ভাঙ্গার গান…

স্বাধীনোত্তর পরাধীনতার সেকলে আজ পড়েছে টান-

টান টান আর ভাঙো সবাই লুকিয়ে থাকার ভাণ।

 

নর-পিচাশের মাতলামি মোরা সইবো কেন আজ শুনি,

গর্জে ওঠো এক সূরে স্বাধীন, বিজয় আনার গান।।

কেমন ব্যথা…

কত যে সুন্দর দেখতে এই ব্যথা!

কচি সবুজ পাতার উপর খরা রোদের

প্রকাশ্য বিচরণ, কাঙ্ক্ষিত এ খেলা।

 

বটবৃক্ষ বলে জানি তারে।

সবার উপরে হাত মেলে উজাড় করছে

ছায়া অবিরত, আকাশে মেঘের মত।

 

তবুও কেন মনে হয় ছায়া তলে আজ

ব্যথা। শীতল যেন চির আলিঙ্গন করেছে

কোন আঁধারকে। রাতে হিমবাহ যেমন।

 

এ ব্যথা থেকে আমায় মুক্ত কর।

বৃক্ষের সবুজ ঘন মেঘ চিরে স্পর্শ কর

সূর্য-দাহ। শীতল তুমি উজ্জ্বল হও।।

স্বপ্ন একবার…

স্বপ্ন কি খেলা ছলে আজ মিথ্যা বলে গেল,

নাকি সে সত্যিই কাল আর আসবে না?

চোখ মুদে যদি আমি অপেক্ষা করি,

তার কি আর দেখা মিলবে না…!!

 

কখনো রাতের অপেক্ষাই আমি বসে থাকি নি,

আঁধারের মাঝে থাকে মিথ্যার মেলা,

তবুও আজ আমি রাতের কাছে মাথা পেতে আছি,

কিন্তু আমার স্বপ্ন যে আর এলো না…?

 

আমি বোধ হয় তাঁর পীড়ার কারণ,

হয়তো তাঁর মূল্যায়নে ছিলাম অপারগ,

হয়তো চিনেও নিজের স্বপ্নকে আমি,

করে নিতে পারিনি আপন-বরণ!

 

হয়তো আমারই দোষে সে

আর ফিরে তাকাবে না অতীতে,

খুঁজবে না আমার মত কোন স্মৃতি,

গড়বে না নতুন কোন গল্প।

 

কিন্তু আমি যে আজও স্বপ্নের অপেক্ষায়,

অন্ধ পথে চোখের পাতা মেলে বর্তমান,

কখন যদি দেখা মিলে তাঁর গেঁথে নিব

আমার স্বপ্নের শেষ আর একবার।

অপরিচিত…

বাগানের লাল গোলাপ ফুলের মত,

আমাকে ছিড়ে নিয়ে গেল এক অপরিচিত।

একটিবারও ভাবল না কেন?

পিছে ফেলে যাচ্ছি আমি কত…!

দেইনি কি আমি বাঁধা তাঁকে,

ডাল, পাতা ছিল, করেছি কাঁটায় ক্ষত।

তবে কেন আজ ভাঙা গাছে সবাই তাকাও,

সেদিন বাগানে তোমরাও ফুটেছিলে, করনি কদর।

 

অপরিচিত আমাকে নিয়ে গেল কোন বিতানে,

ঘ্রাণ নিয়ে ছিড়ে নিয়েছে পাপড়ি আমার,

দুমড়ে মুচড়ে ভেঙ্গেছে আমার কুঁড়ি-পাতা,

পা দিয়ে থেতলিয়ে ফেলেছে নজরের সামনে সবার।

 

এতদিন মৌমাছি ছিল যত আশে-পাশে,

পাইনি তাদের কাছে আজ এতটুকু ঠাই।

দিলো না জুড়তে আমাকে আমার শিকড়ের সাথে,

কেউ বলবে না আমাকে আর বাগানের শোভা।

 

তাই এখন আমি শুধুই পথের পতিত ধুলা,

রঙহারা, অস্তিত্বহীনা, জীবন ছাড়া শুধু বেঁচে থাকা।

কিন্তু কাল বাগানে আসবে আবার সেই অপরিচিত,

কেড়ে নিয়ে যাবে আরেক প্রাণ, আমরা দেখব… ।।

 

ডানা মেলা পাখি…

অনেক দূর ডানা মেলে যে পথ চলে,

সে জানে আজ বাতাস কোন কথা বলে।

কার প্রহসন কার অশ্রু গুনে চলে,

ক্ষুদ্র দাবানলে কার বেহেশত ঢোলে পরে।

 

ডানা মেলা পাখিরা আজ জানে।

 

ক্রোধে ভূমি যে ধুলো ঝেড়ে ফেলে,

আকাশে প্রাসাদ মহল সে মাটিই গড়ে।

কি ভেদাভেদ হওয়ার চলাচলে,

মাটি কি আরও উচ্চ পদস্থলে?

 

ডানা মেলা পাখিরা তা জানে।

 

বাতাসের ধর্ম, সে শুধুই কাটে,

চূর্ণ-বিচূর্ণ করে অদৃশ্য আঘাতে।

মিছে সত্যির নামে স্বাধীনতা হারে,

শ্বাসরুদ্ধ করে শূন্য রাত্রি কবলে।

 

ডানা মেলা পাখিরা যা জানে।

 

সুপ্ত- জাগ্র শুধুই বলে চলে,

আজ হাহাকার সঙ্গীত সুধা কলে।

শুনলে শুধু মন বিহ্বল বোনে,

অজ্ঞ বলেই তারা রাজ্য জয়ে চলে।

 

ডানা মেলা পাখিরা আজ বলে।।